বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ধানের শীষের জয় দিয়ে আমরা দেশ গঠনে হাত দেবো। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতা আমাদের বড় অর্জন। আর ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আমাদের স্বাধীনতা ও জুলাইকে অর্থবহ করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ আজ জানতে ও বুঝতে চায়—কোন দল দেশের জন্য কাজ করবে। বিএনপির দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই দেশের মানুষ বিএনপি ও ধানের শীষের প্রতি আস্থা রাখতে চায়।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ কৃষকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে যেমন ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার দরকার, তেমনি ভালো ক্রীড়াবিদ তৈরি করাও জরুরি। যার যেমন মেধা, তার বিকাশ ঘটাতে বিএনপি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোবে। ভালো ক্রীড়াবিদরা যেন শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারে—সে লক্ষ্যে বিএনপি কাজ করবে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে ইমাম, খতিব, মোয়াজ্জেম এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালু করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে; কিন্তু সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন আগামী দিনে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার কেউ কেড়ে নিতে না পারে।
তিনি বলেন, দেশের সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গত ১৫–১৬ বছরে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার অধিকার ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাই জুলাই আন্দোলনে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করেছে, অনেকে প্রাণ দিয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন—আমাদের তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে; এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে কাজ করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় হলে জনগণের সরকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করা হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ছোট ছোট শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে, বেকার তরুণদের আইটি প্রশিক্ষণসহ কর্মক্ষম করে তুলতে হবে। নারীদের উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করতে বিএনপির পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। বলেন, ধানের শীষ বিজয়ী সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করবে। তিনি আরও বলেন, আগামীতে সারা দেশের মানুষকে ভালো ও নিরাপদে রাখতে হবে—তবেই আমাদের সব আন্দোলন ও চাওয়া পূরণ হবে। এ জন্য তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
এদিকে ২০ বছর পর তারেক রহমানের সিরাজগঞ্জ আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি সর্বশেষ সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ধোপাকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় তারেক রহমানের সিরাজগঞ্জে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তিনি সভাস্থলে পৌঁছান বিকেল সাড়ে ৩টায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে শনিবার দুপুর ২টায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত বিসিক শিল্প পার্ক মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই জনসভা এলাকায় দলে দলে মানুষের সমাগম হতে থাকে এবং দুপুরের মধ্যেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কর্মসূচিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তৈরি করা হয় বিশাল মঞ্চ।
দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে সিরাজগঞ্জের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বড় বড় মিছিল নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে উপস্থিত হন। এ মঞ্চে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার সব সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে জনসভাস্থলে; নারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রোমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ সিরাজগঞ্জ ও পাবনার প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন—সেলিম রেজা (সিরাজগঞ্জ-১), ইকবাল হাসান মাহমুদ (সিরাজগঞ্জ-২), আয়নুল হক (সিরাজগঞ্জ-৩), এম আকবর আলী (সিরাজগঞ্জ-৪), আমিরুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৫), এম এ মুহিত (সিরাজগঞ্জ-৬); শামসুর রহমান (পাবনা-১), এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব (পাবনা-২), হাসান জাফির তুহিন (পাবনা-৩), হাবিবুর রহমান হাবিব (পাবনা-৪) ও শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (পাবনা-৫)।
সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এদিন বেলা ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি রোমানা মাহমুদ।
এবি/ এসআর