নাম উল্লেখ না করে একটি দলের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এক সময় আপনারাও মজলুম ছিলেন, এখন কেন জালিম হতে গেলেন? আমরা আশা করবো আপনারা সংশোধন হবেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায় এবং ১৩ তারিখ থেকেই মানুষ সেই পরিবর্তন দেখতে চাচ্ছে। ১৩ তারিখ যে পরিবর্তন আসবে, তা আসবে যুবসমাজের ওপর ভর করে, আমাদের মায়েদের নিরাপত্তার আকাঙ্ক্ষার ওপর ভর করে এবং গোটা দেশের ইজ্জতের ওপর ভর করে। আমরা আর কোনো আধিপত্যবাদ মানবো না, কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার এ দেশে দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর দেশের মানুষ—আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সিভিল সোসাইটির সদস্য, সাংবাদিক বন্ধুসহ এক কথায় দেশবাসী—মজলুম ছিল। আমরাও মজলুম ছিলাম। আমরা আশা করছি, এখনো যারা মজলুম, তাদের পক্ষে এই বাংলাদেশ থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, একটি কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই—আমরা দলীয় কোনো শাসন এ দেশে দেখতে চাই না। আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে আমাদের ১১ দলের সবার বিজয়।
তিনি আরও বলেন, আপনারা যদি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের ওপর আস্থা রাখেন এবং আপনাদের পবিত্র ভোটের মাধ্যমে তাকে বেছে নেন, তাহলে চৌদ্দগ্রামবাসী মন্ত্রিপরিষদে একজন সিনিয়র সদস্য পাবে, ইনশাআল্লাহ। এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের। এই সুযোগ কাজে লাগাবেন কিনা, সেটি চৌদ্দগ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত।
অন্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ৫ তারিখের পর আপনারা দেখেছেন কার কী কর্মকাণ্ড, কার কী চরিত্র। অতীতকে অতীতের খাতায় রাখলাম, বর্তমান বিবেচনায় নিলে দেশের মানুষের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে না। যারা আমার সম্পদে হাত দেয়, আমার জীবনেও হাত দেয়, এমনকি নিজেদের জীবনও শেষ করে দেয়; যারা আমাদের মায়েদের ইজ্জতে হাত দেয়, আমার মায়ের পেটে লাথি মারে, আমার মায়ের কাপড় খুলে নেওয়ার হুমকি দেয়—তাদের হাতে দেশের ৯ কোটি মা কি নিরাপদ?
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজিসহ যত দুর্নীতি আছে, সেগুলোর গোড়া কেটে দিতে চাই। এতে কারও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই অপকর্ম ছেড়ে দিন, জাতিকে আর কষ্ট দেবেন না। এক সময় আপনারাও মজলুম ছিলেন, এখন কেন জালিম হতে গেলেন? আমরা আশা করবো আপনারা সংশোধন হবেন।
জুলাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে যুবসমাজ বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করেছিল, তারা কি বেকার ভাতার জন্য যুদ্ধ করেছিল? তারা তাদের অধিকারের জন্য যুদ্ধ করেছিল। সেই কারণেই আবু সাইদ রাস্তায় নেমে বলেছিল—হয় আমার অধিকার দাও, না হয় একটি গুলি দাও। সে বলেছিল, বুকের ভেতর তুমুল ঝড়, বুক পেতে আছি—গুলি কর। সে অধিকারের জন্য গুলি খেয়েছে, জীবন উপহার দিয়ে আমাদের মুক্তি এনে দিয়েছে। আমরা সেই জুলাইয়ের যোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। সাড়ে ১৫ বছর ধরে যারা লড়াই করে মজলুম হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন এবং নির্যাতিত হয়েছেন, আমরা কারও অবদান অস্বীকার করতে চাই না।
কওমি মাদরাসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, তাহলে কওমি মাদরাসার নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কওমি মাদরাসার উৎকর্ষ সাধনের জন্য যা কিছু করা দরকার, তা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, মাওলানা আবদুল হালিম, শিবিরের সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আরএন