লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদকসেবী ও কিশোরগ্যাং সদস্যদের হামলায় কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় ১৭ দিন পার হলেও প্রধান আসামিসহ পাঁচজন এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে। এ ঘটনায় আসামিদের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা পরিবারটির মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এখনো পলাতক থাকা আসামিরা হলেন—নাহিদ, সুফিয়ান, শাকিল পাইক, শামীম ও হাবিব। দীর্ঘ সময় পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
এর আগে গত শনিবার র্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অভিযানের অংশ হিসেবে শুক্রবার গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা গাউছিয়া এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী গ্রামের মোস্তফা বেপারীর ছেলে এজাহারনামীয় ৬ নম্বর আসামি শাকিল বেপারী (২৩), ৭ নম্বর আসামি সোহাগ বেপারী (১৯) এবং মোস্তফা পাটওয়ারীর ছেলে ৮ নম্বর আসামি মোক্তার পাটওয়ারী (২০)। গ্রেপ্তারের পর তাদের রায়পুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত আশরাফুল ইসলামের বাবা আজিজুল হক খান বলেন, “অতি দ্রুত হত্যার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো। হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিতে বা সন্ধান দিতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।”
নিহত আশরাফুল ইসলাম রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরবংশী গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। তিনি রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে স্থানীয় মাদকসেবী ও কিশোরগ্যাং সদস্য নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীর নেতৃত্বে আশরাফুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ১৬ জানুয়ারি আশরাফুলের বাবা আজিজুল হক বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে শাহিনসহ তিনজনকে মাদকসহ গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। শাহিন ধারণা করেন, আশরাফুল তথ্য দিয়ে তাকে ধরিয়ে দিয়েছেন। ওই ক্ষোভ থেকেই জামিনে মুক্ত হয়ে শাহিন তার সহযোগীদের নিয়ে আশরাফুলের ওপর হামলা চালান।
রায়পুর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মান্নান জানান, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চলছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এমআরএম/এসআর