দেশের শীতলতম অঞ্চল হিসেবে পরিচিত চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে চলতি শীত মৌসুমে তীব্র শীতের প্রকোপ বেড়েছে। কনকনে ঠাণ্ডা ও হাড় কাঁপানো আবহাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
শনিবার সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গলে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই তাপমাত্রা শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র কর্মকর্তা রকিবুল হাসান জানান, “শনিবার সকাল ৯টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠাণ্ডার কারণে সকাল থেকেই রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচল কমে গেছে। শীতের প্রভাবে কর্মজীবী মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।”
এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিম জানান, “প্রতিদিন সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড বহু পুরনো। ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল মাত্র ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ৩.৩ ডিগ্রি, ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ৫ ডিগ্রি, ২০০৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৫.২ ডিগ্রি, ১৯৯৫ সালের ৪ জানুয়ারি ও ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
চলতি শীত মৌসুমে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ফলে শীত থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পাশাপাশি শীতবস্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরএ/আরএন