বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১-দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যদি তাদের পবিত্র ও মূল্যবান ভোট দিয়ে এই জোট ও ঐক্যকে নির্বাচিত করে, তবে আমরা জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না। আমরা পুরোনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়াকামড়ি করব না, পিছনের দিকে দৌড়াব না। আমরা যুবকদের স্বপ্নের একটি অগ্রগামী বাংলাদেশ দেখতে চাই।
তিনি বলেন, “যুবকরা, আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। তোমরা বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য কোনো দাবি জানাওনি। আমরা বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অপমানিত করতে চাই না। বরং তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ। প্রত্যেকটি হাতে আমরা মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দেব। তখন প্রত্যেক যুবক গর্বের সঙ্গে বলতে পারবে—আমিই বাংলাদেশ। আমাকে দেখেই মানুষ বুঝে নেবে বাংলাদেশ কী। আমরা সেই বাংলাদেশই গড়ে তুলতে চাই। আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই।”
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আয়োজনে শহরের লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই যুদ্ধে যারা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন, তাদের সবাইকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। আমরা কথা দিয়েছিলাম—জুলাইযোদ্ধাদের আমাদের অন্তরে জায়গা করে দেব। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। আমরা জুলাইকে কবুল করে নিয়েছি। এই জুলাই জনগণকে মুক্তি দিয়েছে। জুলাই এসেছিল বলেই আজ আমি এখানে এসে দাঁড়াতে পেরেছি। জুলাই এসেছিল বলেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কিন্তু কেউ কেউ জুলাইযোদ্ধাদের স্বীকার করতে চান না। যাদের কারণে জেল থেকে মুক্তি, যাদের কারণে অনেকে দেশে ফিরে এসেছেন, যাদের কারণে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, যাদের কারণে কেউ কেউ দেশ শাসনের স্বপ্ন দেখছেন—তারাই আজ তাদের অস্বীকার করছেন। লজ্জা! এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
এছাড়া তিনি বলেন, “দেশবাসী পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দেখেছে—৫৪ বছর ধরে। সেই বন্দোবস্ত ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছে, মানুষের অধিকার হরণ করেছে, দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। চাঁদাবাজিতে জনগণকে অতিষ্ঠ করা হয়েছে। জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকেই গুলি করা হয়েছে। সেই রাজনীতি আমার মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে। আপনারা কি সেই রাজনীতি আবার ফিরে আসতে চান? ব্যাংক ডাকাতি করে জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আপনারা কি সেই বাংলাদেশ আবার চান? আপনারা যদি পরিবর্তন চান, তবে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। গণভোটে সিল প্রথমেই ‘হ্যাঁ’ ভোটে মারতে হবে।”
জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি আবু সাদেক কায়েম, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি, জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।
আরএইচ/আরএন