ভোলার চরফ্যাশনসহ সাত উপজেলায় শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গত কয়েক দিন থেকে বয়ে যাওয়া হিমেল হওয়ার সাথে ভারী কুয়াশায় জনজীবন বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে।
শীতের তীব্রতা বাড়ার কারণে গত দুই সপ্তাহে উপজেলায় শিশুদের ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে জ্বর, সর্দি ও কাশি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় শিশু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ মনে করছেন চিকিৎসকরা।
রোববার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে অনেক লোক ভিড় করেছে। তাদের অনেকেই ঠান্ডাজনিত সর্দি, জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত। বয়স্কদের অনেকেই শ্বাসকষ্ট, শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছে।
অপরদিকে, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া হাল্কা রোদে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেঝে ও করিডোরে ভর্তিকৃত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাহাবুব কবির বলেন, গত এক মাস থেকে শিশু ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শনিবার এখানে ১৩ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ১০ জন শিশু। রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত ১২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ১লা জানুয়ারি থেকে এ যাবৎ ১৫০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের কলা ও চিড়া খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শীতে শিশু দের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই সময়টাতে শিশুকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। শীত বেশি পড়লে শিশুকে গরম কাপড় পরাতে হবে। শিশুদের খুব বেশি সময় ঘরের বাইরে রাখা যাবে না।
উপজেলার জিন্নাগড় গ্রাম থেকে আসা খোকন মিয়া বলেন, আড়াই বছরের সন্তান ইব্রাহিমের পাতলা পায়খানা ও বমি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কোনো বেড ফাঁকা না থাকায় বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছি।
আব্দুল গফুর (৬০) বলেন, শীতে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার সমস্যা বেড়েছে। তাই চিকিৎসা নিতে এসেছি।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, শীতজনিত রোগের প্রকোপ একটু বেড়েছে। অন্যান্য রোগীর তুলনায় শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশি। স্যালাইন যাতে নষ্ট না হয় তাই সরবরাহের ক্ষেত্রে একটু কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। শিশুদের প্রথমে ১০০ ও পরে ২০০ এমএল স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ ও স্যালাইনের কোনো সংকট নেই।
এসএফ/এমএ