আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, 'বিচার ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রচলিত বেইলবন্ড দাখিল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে ই-বেইলবন্ড চালু করা হলো।'
বুধবার সচিবালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুযালি যুক্ত হয়ে দেশের আট জেলায় ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধন করেন তিনি।
বুধবার থেকে মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হলো।
আসিফ নজরুল বলেন, 'এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ বিচারপ্রার্থী, কারা প্রশাসন ও আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ে সহায়ক হবে। প্রথম ধাপে নারায়ণগঞ্জ জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়ে এখন সফল ভাবে চলছে।'
তিনি বলেন, 'দুটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা চালুর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে আমাদের। একটা হচ্ছে বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন। আপনারা জানেন বিবাহ-তালাক রেজিস্ট্রেশন নিয়েও অনেক বিরোধ হয়, অনেক ধরনের ভোগান্তি হয় মানুষের। বিবাহ-তালাক রেজিস্ট্রেশনে রেজিস্ট্রেশন আছে কি না এ সুযোগে মেয়েদের অনেক হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি তাদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়।'
আইন উপদেষ্টা বলেন, 'আমরা এটা অনলাইনে করার ব্যবস্থা করছি। বিবাহ-তালাক নিবন্ধন- এটা সম্পূর্ণ অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কাজ চালু হবে। এটা চালু হওয়ার কাজটা অলরেডি শুরু হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আরেকটা আমাদের অত্যন্ত অ্যাম্বিশাস (উচ্চাভিলাষী) প্রজেক্ট আছে। এই প্রজেক্টটা অনেক বড় প্রজেক্ট, প্রজেক্ট প্রণয়ন করতে আমাদের অনেক টাইম লেগেছে। এটা হচ্ছে আপনারা জানেন যে জমি-জমা সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন। এটা নিয়ে মানুষের প্রচুর ভোগান্তি হয়। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রতি অনেক কমপ্লেইন থাকে মানুষের। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেও অনেক ধরনের কিছু কিছু জিনিস শোনা যায়, কারো কারো ক্ষেত্রে শোনা যায়। সেখানেও আপনার অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পরও ভোগান্তির একটা নতুন পর্যায় শুরু হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা যদি জমি-জমা এবং সম্পত্তির ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন চালু করি, তাহলে এই ভোগান্তি বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।'
আসিফ নজরুল বলেন, 'অনলাইনে জমি-জমা সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটা প্রকল্প আমরা অলরেডি অনুমোদন করেছি, প্রকল্পের কার্যক্রম অলরেডি শুরু হয়েছে। এই জমির দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদনের জন্য অলরেডি আমরা রেজিস্ট্রেশন আইন সংশোধন করে ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াও সংযুক্ত করেছি।'
তিনি বলেন, 'আমরা থাকবো না, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি পরবর্তীকালে যে সরকারই আসবে, ই-রেজিস্ট্রেশন যে প্রকল্পটা আছে এটা তারা পূর্ণদমে তারা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে।'
তিনি আরও বলেন, 'এই প্রকল্পের পিডি নিয়োগ, এই প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ, এই প্রকল্পের অফিস নেওয়া সবকিছুই আমাদের আমলে শুরু হচ্ছে। যখন এই যুগান্তকারী কাজটা সম্পন্ন হবে, তখন জমি-জমা সংক্রান্ত মামলা এবং জমি-জমা সংক্রান্ত মামলা থেকে অনেক ফৌজদারি মামলা হয়, সে মামলার প্রকোপ বহুলাংশে কমে যাবে। এই কাজটা অলরেডি শুরু হয়েছে।'
গত বছরের ২৪ নভেম্বর ঢাকায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু হয়েছে জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, 'গত বছরের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু হয়েছে। ঘরে বসে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও বিচারক তাদের নিজ নিজ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মামলা দায়ের ও পরিচালনা করতে পারছেন।'
আগে সত্যায়ন করতে কাগজপত্র নিয়ে ঢাকায় এসে দীর্ঘ লাইন ধরতে হতো, এখন ঘরে বসে অনলাইনে দ্রুত সত্যায়ন সেবা পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, অনলাইনে মামলার তালিকা, তারিখ ও বিচারিক সিদ্ধান্তের সারাংশ, পরবর্তী পদক্ষেপ ও অগ্রগতি দেখার সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি আইনগত সহায়তার আবেদন অনলাইনে করা যাচ্ছে। অনলাইনে বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে। শিগগির সেবাটিকে সম্পূর্ণরূপে ডিজিটালাইজড করা হবে বলেও জানান আইন উপদেষ্টা।
এমএ