শুক্রবার নিউইয়র্ক সময় সকাল ৯টায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে দশম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গত বছর এই মহান সভায় আমি উপস্থিত হয়েছিলাম একটি সদ্য গণ-অভ্যুত্থানপূর্ব দেশের রূপান্তরের প্রত্যাশা আপনাদের জানাতে। আজ আমি জানাতে এসেছি, আমরা সেই রূপান্তরের পথে কতদূর অগ্রসর হয়েছি।
তিনি জানান, তাঁর সরকারকে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রয়োজন ছিল ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, যে বিপুল জনসমর্থনের মাধ্যমে আমরা দায়িত্ব পেয়েছি, তার ভিত্তিতে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার করা আমাদের জন্য সহজ ছিল। কিন্তু আমরা বেছে নিয়েছি কঠিন পথ—একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পন্থা।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং তারা সুপারিশ প্রদান করেছে। তাঁর সরকারের লক্ষ্য—ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে কোনো স্বৈরশাসক আর যেন পুনরাবৃত্তি করতে না পারে।
কোনো নির্বাচিত নেতা যেন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করতে না পারেন কিংবা রাষ্ট্র ও জনগণের রক্ষকেরা যেন কখনো ভক্ষকে পরিণত না হন—আমাদের এই লক্ষ্যই সংস্কারের ভিত্তি, বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমরা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর পাশাপাশি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে আমরা নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।
গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণা’র কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে একটি সময়াবদ্ধ অঙ্গীকার করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচনে যে দলই জনগণের সমর্থন পাক না কেন, সংস্কার বাস্তবায়নে আর কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না।
আরএন