শুক্রবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সকাল সময় ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে দশম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে গঠিত ঐকমত্যই দেশের গণতন্ত্র ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে টেকসই করে এগিয়ে নেবে। জনগণের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের এই যাত্রাকে আর কোনো শক্তি রুখে দিতে পারবে না।
প্রধান উপদেষ্টা স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশের জন্ম ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, যার মূল দাবি ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। কিন্তু বিগত পাঁচ দশকে এই মৌলিক অধিকার বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে, আর জনগণকেই বারবার তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এগিয়ে আসতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে’ তরুণ প্রজন্ম স্বৈরাচারকে পরাজিত করে। এই অভ্যুত্থান বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ নির্মাণের পথ উন্মুক্ত করেছে, এবং সেই দায়িত্ব এখন জনগণ আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
রাষ্ট্রকাঠামোর পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, নির্বাহী আদেশে পরিবর্তন আনা সম্ভব হলেও তাঁর সরকার বেছে নিয়েছে কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদি পথ—একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কার প্রক্রিয়া।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন, নারী অধিকারসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে গঠন করা হয়েছে স্বাধীন সংস্কার কমিশন।
তিনি জানান, এসব কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের জন্য ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটকে নিয়ে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত জুলাই মাসে সব রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে ‘জুলাই ঘোষণা’র মাধ্যমে সময়বদ্ধ সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।
ড. ইউনূস দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এই ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনে যে দলই বিজয়ী হোক না কেন, সংস্কার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই থেমে থাকবে না।
আরএন