১৬৪তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ পরীক্ষায় দেশসেরা হয়েছেন অমিত কুমার পাল। চার মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে ২৮ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে পুরুস্কার তুলে দেন।
জানা গেছে, অমিত কুমার পাল ২০০৫ সালে আড়ানী সরকারি মনোমোহীনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০৭ সালে ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পরে তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করে সান্তাহার সরকারি কলেজে যোগদান করেন। এই কলেজ থেকে তিনি ১৬৪ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে চার মাস মেয়াদে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। এই পরীক্ষায় তিনি দেশসেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
অমিত কুমার পাল রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর বাজারের স্বর্গীয় হিতেন কুমার পালের নাতী ও বাবু উত্তম কুমার পাল ও বাসনা রানী পালের ছেলে। তার বাবা উত্তম কুমার পাল একজন আড়ানী বাজারের ফুটপাতের ক্ষুদ্র মিষ্টি বিক্রেতা। মা গৃহীনি। অমিত কুমার পালের ভাই মৃনাল কুমার পাল মিঠন এমবিবিএস শেষে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নি করছেন। বোন পলি কুমার পাল সম্প্রতি গ্রেজুয়েশন শেষ করেছেন।
এ বিষয়ে অমিত কুমার পাল বলেন, আমি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমার বাবা সামান্য ফুটপাতে মিষ্টি বিক্রি করে দুই ভাই ও এক বোনকে মানুষ করার চেষ্টা করছেন। আমি ৩৫তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে একটি কলেজে যোগদান করেছি। সেখান থেকে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ পরীক্ষায় দেশসেরা হয়েছি।
অমিত কুমার পালের পিতা ও বাবু উত্তম কুমার পাল বলেন, আমার ছেলেমেয়েদের কখনো ভাল প্রাইভেট, ভাল পোশাক, খাদ্য, ঘুমানোর ভাল জায়গা দিতে পারেনি। আমার ও আমার স্ত্রী বাসনা রানীর সার্বিক প্রচেষ্টায় আজ ছেলে ভাল জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।
-এএইচ/এনএন