আকাশ লণ্ঠন বা ফানুস হলো কাগজের তৈরি একটি ছোট উষ্ণ বায়ু বেলুন। যেখানে নিচের দিকের একটি অংশে ছোট অগ্নিকুণ্ড স্থাপন করা থাকে। বিশ্বের সব স্থানেই বহু শতাব্দী ধরে ঐতিহ্যগত ভাবে ফানুস তৈরি করা হয়।
ফানুস জ্বালানোর পর, অগ্নিশিখা খোলের ভেতরের বাতাসকে উত্তপ্ত করে ও এর ঘনত্ব কমিয়ে দেয় যার ফলে তা বাতাসে ভেসে যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকে কেবলমাত্র ততক্ষণই ফানুস ভাসতে থাকে। আগুন নিভে গেলে এটি আবার মাটিতে পড়ে যায়।
ফানুস উড়িয়ে নতুন বছর বরণের চলও বেড়েছে। এ কারণেই থার্টি ফার্স্ট নাইটকে সামনে রেখে ফানুসের দাম বেড়ে যায় অনেক। তাই উৎসব-অনুষ্ঠানে ফানুস ওড়াতে চাইলে ঘরেই তা খুব সহজে তৈরি করতে পারেন। জেনে নিন কীভাবে তৈরি করবেন-
যা যা লাগবে-
১. টিস্যু বা খুব পাতলা পেপার
২. আঠা
৩. পেইন্ট ব্রাশ
৪. পাতলা তার
৫. বাঁশের পাতলা কঞ্চি
৬. কাঁচি
৭. ছুরি ও
৮. প্লাস বা তার কাটার যন্ত্র।
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে চারটি বড় টিস্যু পেপার একটি আরেকটির উপর একসঙ্গে রাখুন। এরপর এটি লাম্বালম্বি দুই ভাঁজ করুন। তারপর কাঁচি দিয়ে ফানুষের আকৃতি অনুযায়ী কেটে নিন।
এরপর কাগজের ভাজ খুলুন। এখন আপনার কাছে ৪টি বড় আকারের ঘণ্টা আকৃতির কাগজ থাকবে। এরপর ৪টি কাগজকে একটি আরেকটির সঙ্গে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিন, যেন বেলুন আকৃতির মতো হয়।
এরপর বাঁশের পাতলা কঞ্চি নিয়ে সেটা কাগজের যে পাশে খোলা আছে, সে পাশের মাপ অনুযায়ী একটি গোলাকার চাকতি তৈরি করুন। এবার পাতলা তার দিয়ে একটি মোমবাতি যুক্ত করুন। মোমবাতির পরিবর্তে অন্য দাহ্য বস্তুও ব্যবহার করতে পারেন।
খোলা মুখটি ১০-৩০ সেন্টিমিটার প্রশস্ত রাখতে হবে। এরপর বাঁশের চাকতিটি কাগজে যুক্ত করুন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল ফানুস। এরপর সাবধানে আগুন দিন ফানুসে। যখন ভেতরে গরম বাতাস দিয়ে পূর্ণ হবে তখন তা আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠতে থাকবে। তখন ছেড়ে দিন ফানুস। তবে অবশ্যই সতর্ক থেকেই ফানুস ওড়াবেন।
শতাব্দীকাল ধরে ফানুসের ব্যবহারে ফসল বা বাড়িঘরে আগুন লাগা ও পশুদের ক্ষতির সম্ভাব্য কারণে ফানুস বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের বর্ষবরণে ফানুস ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ডিএমপি।
রাজধানী শহর ঢাকা ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় ও এই শহরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় ফানুস থেকে অগ্নিকাণ্ড ও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আছে, বলে জানায় ডিএমপি।