বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। জুলাইকে কেউ কেউ ৭১–এর মতো ব্যবসায়িক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। আগের ধারার মতো জুলাইকে ব্যবহার করে অনেকে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। এজন্য কি আমার শহীদ ভাইয়েরা জীবন দিয়েছেন? দেশে এখনও দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ; এ দেশে কোনো দুর্নীতি চলবে না, হত্যা–নির্যাতনের রাজনীতি চলবে না। আগামী দিনে ফ্যাসিবাদের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। যারা করবে তাদের পরিণতি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চেয়েও খারাপ হবে।
সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একটি আদর্শের মধ্য দিয়ে দেশে জুলাই সংঘটিত হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলন হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়; এটি বহু দিনের জাগরণ ছিল। ২৪–এর জুলাই আন্দোলন ছিল একটি ইতিহাস। জুলাইকে আমাদের ধারণ করতে হবে। কিন্তু জুলাইকে কেউ কেউ বিক্রি করে দিচ্ছে, হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৬ সালে লগি–বৈঠার মাধ্যমে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছিল। হাসিনা নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। ক্ষমতায় এসে দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদের হত্যা করেছে, শাপলা চত্বরে আলেমদের ওপর অন্যায়ভাবে গণহত্যা করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে পাবনার সাঁথিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাঁথিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র ও যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নাজিবুর রহমান মোমেন শহীদদের উত্তরসূরী। তিনি তরুণ প্রজন্মের আইকন। তিনি বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন। নাজিব মোমেন ভাইকে দাঁড়িপাল্লায় বিজয়ী করতে হবে, যাতে দেশে ন্যায়–ইনসাফের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসু ভিপি (ঢাবি) ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তারা দিল্লির দালালি করেছে। এই স্বাধীন বাংলায় দিল্লির দালালি চলবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশ বিভাজনের রাজনীতি এ দেশে চলবে না। আমাদের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন স্বাধীন দেশ পেয়েছি। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না—এটা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আগামীতে বাংলাদেশ হবে ইনসাফের দেশ, শহীদদের দেশ। কেউ পেছন থেকে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করলে ফ্যাসিবাদের চেয়েও অবস্থা খারাপ হবে।
আমরা দুর্নীতিমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই। এ দেশ হবে বৈষম্যহীন সবার বাংলাদেশ।
সাঁথিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ফুটবল মাঠে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল; শহীদ আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ৬৮–পাবনা–১ আসনের এমপি প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন; জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন; সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল গফফার খান; সহ–সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন—কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ডা. আব্দুল বাসেত খান; সাঁথিয়া পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ আব্দুল গফুর; উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস; অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলম; বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর আতাউর রহমান; সুজানগর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক হিসাব উদ্দিন; ফরিদপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু তালেব; জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম মিয়া; উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোস্তফা কামাল মানিক; পৌর কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মালেক; অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেজবা হোসাইন; ঢাবি ফজলুল হক হলের সভাপতি খন্দকার আবু নাইম; উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মেহেদি হাসান; জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুন্নাফ হোসেন; জেলা শহর শাখার সভাপতি গোলাম রহমান জয়।
সমাবেশে ইসলামি গান পরিবেশন করেন সৃজন শিল্প গোষ্ঠীর রোকনুজ্জামান ও আব্দুন নূর।
জেইউ/আরএন