লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে সবুজ ইসলাম (৩০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিহতের লাশ বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জগতবেড় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হাবিবুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘নিহতের বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি।’
বিজিবি ও এলাকাবাসী জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার ফুলকাডাবরি গ্রামের খালপাড়া এলাকার বিপরীতে বাংলাদেশের জগতবেড় ইউনিয়নের পঁচাভান্ডার সীমান্ত এলাকা। বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) রাতের দিকে উভয় দেশের সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৬৪ নম্বরের ৫ নম্বর উপপিলারের কাছে ৮ থেকে ১০ জন গরু পাচারকারী গরু আনা–নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় বাংলাদেশি পাচারকারীরা ভারতীয় অংশের প্রায় ৩০ গজ ভেতরে চেনাকাটা এলাকায় প্রবেশ করে।
সেই মুহূর্তে ভারতের ১৬৯ কোচবিহার রাণীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চেনাকাটা ক্যাম্পের টহল দল তাদের দেখে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সবুজ ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। সবুজ জগতবেড় ইউনিয়নের পঁচাভান্ডার গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি বাজারে ছোট মুদি দোকান করতেন। এক বছর আগে তাঁর বাবা মারা যান। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেন, তাঁর এক বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)–এর ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)–এর শমসেরনগর ক্যাম্পের কমান্ডার ও টহল দল ঘটনাস্থলে যান। বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর) সকালে শমসেরনগর বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার চেনাকাটা ক্যাম্পের বিএসএফ কমান্ডারকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠান। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সীমান্তের পাশে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারতের চেনাকাটা কোম্পানি কমান্ডার ও বাংলাদেশের শমসেরনগর কোম্পানি কমান্ডারসহ উভয় দেশের ১০ জন করে সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
জগতবেড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অহেদ আলী বলেন, ‘শমসেরনগর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমাকে কল দিয়ে জানান—বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি এক গরু পাচারকারী নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা বললেও অসুস্থতার কারণে যেতে পারিনি। সকালে সবুজদের বাড়িতে গিয়ে দেখি তাঁর মা, স্ত্রী—কেউই বাড়িতে নেই।’
এ বিষয়ে বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)–এর শমসেরনগর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিজিবি–বিএসএফের পতাকা বৈঠকে গুলি করে বাংলাদেশি যুবক হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। লাশ ফেরত চাওয়া হয়েছে। বিএসএফ জানিয়েছে, লাশ থানা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে; ময়নাতদন্ত শেষে লাশ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় বিকেলে উভয় দেশের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে আরেকটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’
এমএস/এমএইচ/আরএন