খুলনায় আদালত চত্বরের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজন হত্যর ঘটনায় ওই দুই পরিবার থেকে মামলা দায়ের না করায় পুলিশ বাদী হয়ে বুধবার বিকালে খুলনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এদিকে হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে ৫৪ ধারায় আটক রিপন শেখ জড়িত নয় বলে দাবি করেছে তার পরিবার এবং নিহত হাসিব হাওলাদারের ছোট ভাই সুমন হাওলাদার।
এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করে বলেন রিপন শেখ ‘ইহুদি বাহিনীর সদস্য ছিল না।
জোড়া হত্যা মামলা দায়ের সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাই বলেন, জোড়া হত্যার ঘটনায় দুই পরিবারের কেউ মামলা না করায় খুলনা থানার এস আই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত করবেন এস আই মোঃ মিয়ারব হোসেন।
তিনি জানান, অজ্ঞাতনামা ১৫/১৬ জন আসামী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০২/৩৪ ধারা এবং ঘটনাস্থল হতে গুলির কার্তুজ ও ফায়ার্ডকৃত কার্তুজের অংশ বিশেষ, খুলনা পাওয়া যাওয়ায়। আসামীরা ১৯ (এফ), আর্মস এ্যাক্ট. ১৮৭৮ ধারায় অপরাধ করেছে। ভিকটিম দ্বয়ের পিতা-মাতাসহ তাদের আত্মীয় স্বজন উক্ত বিষয়ে কোন অভিযোগ না করায় বিষয়টি ধর্তব্য অপরাধ হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে অজ্ঞাতনামা ১৫/১৬ জন আসামীদের বিরুদ্ধে অত্র এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হলো। এছাড়া ঘটনাস্থল হতে গুলির কার্তুজ ও ফায়ার্ডকৃত কার্তুজের অংশ বিশেষ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, গত রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে খুলনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান গেটের সামনের সড়কে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনকে। তারা খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ বাহিনীর সদস্য। এই জোড়া হত্যার সঙ্গে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবুর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনার পরপর চারটি কারণ সামনে রেখে পুলিশ তদন্ত করছে।
এদিকে নিহত দুই পরিবার নিরাপত্তা জনিত কারণে মামলা দায়ের করেনি। এ প্রসঙ্গে নিহত রাজনের বাবা মোঃ এজাজ শেখ বলেন তিনি তার ছেলে হত্যার বিচার আল্লাহর আদালতে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিচারতো আদালতে হয়ে থাকে। কিন্তু আদালতে হাজিরা দিতে এসে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলে কার কাছে বিচার চাইবো। চারিপাশে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসা এবং অফিস রয়েছে। এমন একটি জায়গায় নিরাপত্তার চিত্র যদি এমন হয় তাহলে মানুষ কোথায় যাবে।
এজাজ শেখ আরো বলেন, আমি কোন মামলা করব না। মামলা করে কি হবে? আমার একটা মাত্র ছেলে তাকেতো ওরা মেরে ফেলেছে। এখন মামলা করলে কী আমার ছেলেকে ফিরে পাবো? আমার বা আমার পরিবারের নিরাপত্তা কে দেবে? আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম তিনিই উত্তম বিচার কারনেওয়ালা। বন্ধুর উপকার করতে গিয়ে আমার ছেলে মিথ্যা মামলায় ফেঁসেছে। জেলে থাকা অবস্থায় আমার ছেলেকে হত্যা ও অস্ত্র মামলা সহ ছয়টি মামলা দেয়া হয়েছে। সেই মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আজ আমার ছেলে সন্ত্রাসীদের গুলিকে নিহত হয়েছে।
এদিকে হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে ৫৪ ধারায় আটক রিপন শেখের স্ত্রী আখি আজ বেলা ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নিহত হাসিবের ছোট ভাই সুমন হাওলাদোর। তিনি বলেন, আমরা মামলা দেব না। নিহত হাসিবের দুই শিশু কন্যাসহ পরিবারের নিরাপত্তার কারণেই আমরা মামলার দিকে যাচ্ছিনা। তাছাড়া হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে আমার ঘনিষ্ট বন্ধু ও প্রতিবেশী। তাকে হয়রানী করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মিসেস আখি বলেন, রিপন শেখ ঘটনার দিন ফকিরহাটের ফলতিতা পাইকারী মাছের বাজারে মাছ কিনতে গিয়েছিল। দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনার আদালতের সামনে যখন হত্যাকান্ড সংগঠিত হয় তখন সে ওই বাজারে ছিল, যার ভিডিও ফুটেজও দেখানো হয়। এছাড়া রিপন ‘ইহুদি’ বাহিনীর সদস্য ছিল না। ২০০৩ সালে ‘ইহুদি’ বাহিনী বিলুপ্ত হয়, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর।
এসএমএস/এসআর