আটাবে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আটাবের সাধারণ সদস্যরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন। তারা আটাব কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসক নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (১০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় আটাব কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আটাবের সাধারণ সদস্যরা অভিযোগ করেন, "অন্যায়ভাবে, অবিচার করে এবং প্রভাবিত হয়ে এই প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালককে প্রমাণ ছাড়াই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া প্রশ্নবিদ্ধ।" তারা প্রশাসক নিয়োগের আদেশ বাতিলের দাবি তোলেন এবং বলেন, "বাংলাদেশে কোন এসোসিয়েশনে প্রশাসক নিয়োগে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি, বরং এতে সংগঠনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।"
এছাড়াও, তারা পুনরায় প্রশাসক প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং নির্বাচিত কমিটির অধীনে আটাবের কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাধারণ সদস্যরা আরও দাবি করেন, যাত্রীর নাম ও পাসপোর্ট ছাড়াই টিকেট ব্লক করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যার পেছনে সক্রিয় একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা দ্রুত এ সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের গ্রেফতার এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করার দাবি জানান।
এসময় তারা টিকেটের দাম বাড়ার সমস্যাও তুলে ধরেন, বলেন, "৩০ হাজার টাকার টিকেট এখন ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদি সরকার ব্যবস্থা না নেয়, তবে আগামীতে টিকেটের মূল্য ১ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে, যা সাধারণ যাত্রী ও দরিদ্র বৈদেশিক শ্রমিকদের জন্য একেবারে নাগালের বাইরে চলে যাবে।" মজুতকরণ বন্ধ করে আসন সংকট নিরসনেরও দাবি জানানো হয়।
এছাড়া, তারা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় তা সাধারণ যাত্রী ও ট্রাভেল এজেন্সির শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ করেন এবং দ্রুত কার্যকর ওটিএ নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
আটাবের সদস্যরা, বিশেষ করে জুম্মন চৌধুরী ও সবুজ মুন্সীকে টিকেট সিন্ডিকেটের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার ও লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন আটাবের প্রধান সমন্বয়ক শাহ আলম কবির, সমন্বয়ক শরীফুল আলম দিপু, এবং অন্যান্য সাধারণ সদস্যরা, যেমন: এ কে এম বারী, মইনুল ইসলাম, মাহমুদুল আলম, মোশাররফ হোসেন, ইমাম হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, সুমন, জহিরুল ইসলাম, নুরুল আলম, নাজমুল ইসলাম রুমি, মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।