দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে দিন দিন কমে আসছে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ। এক সময় প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০টি পণ্যবাহী ট্রাক বন্দর দিয়ে প্রবেশ করত। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টির মধ্যে। যদিও কিছুটা আমদানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে, রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক জানান, “১৯৮৬ সালে হিলিকে শুল্ক স্টেশন হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বর্তমানে এ বন্দর কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একসময় এই বন্দর দিয়ে ফল, যানবাহনের যন্ত্রাংশসহ নানা ধরনের পণ্য আমদানি হতো। এখন শুধু মসলা ও ফিড জাতীয় সামান্য কিছু পণ্য আসছে।”
আমদানিকারক ওয়াহেদুল রহমান রিপন বলেন, “শেড সংকট এবং পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতা ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করছে। ভারত থেকে আসা শুল্কযুক্ত পণ্যগুলো শেডে জায়গার অভাবে ৩–৪ দিন আটকে থাকে, ফলে আমাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”
বন্দরের শ্রমিকদের অবস্থাও করুণ। শ্রমিক জসিম উদ্দিন জানান, “আগে প্রতিদিন কাজ পেতাম, এখন সপ্তাহেও ঠিকমতো কাজ নেই। আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
হিলি শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, “বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০টি আমদানিকৃত ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করছে, যার অধিকাংশই মসলা ও কিছু ফিডজাতীয় পণ্য বহন করছে। রপ্তানি কার্যক্রম বলতে গেলে নেই।”
তিনি আরও জানান, “বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পেঁয়াজ ও চাল আমদানির জন্য কোনো ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) দেওয়া হয়নি। ফলে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও আমদানি হচ্ছে না।”
বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিমিটেডের অব্যবস্থাপনার কারণেও বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে হিলি স্থলবন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
জিএম/আরএন