পটুয়াখালীর বাউফলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো. ফাহিম বয়াতী (১৯) হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সহপাঠী ও এলাকাবাসি।
শনিবার সকাল ১০ টায় নিহত ফাহিমের বিদ্যাপীঠ বাউফলের নওমালা আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজ মাঠে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তৃতা করেন নিহত ফাহিমের মা মোছা. রেকসোনা বেগম, ভাই আবু নাঈম, সহপাঠী বন্ধু মো. মনির, মাওলানা মো. আল আমিন, আবুল গাজী ও মো. হান্নান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আসামিরা এখনও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আগামি ৭২ ঘন্টার মধ্যে চিহ্নিত দুই খুনিকে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায়, কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন সহপাঠীরা।
পরে তারা কলেজ মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নগরের হাট এলাকায় গিয়ে শেষ করে।
গত মঙ্গলবার বিকালে দশমিনা উপজেলার বেতাগি সানকিপুর ইউনিয়নের ধলুফকির বাজার এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফাহিম বয়াতিকে (১৮) কুপিয়ে হত্যা ও তার বাবা জাকির হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। জাকির হোসেন বর্তমানে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ফাহিম বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ভাংরা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে ও নওমালা আবদুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তিনি। তিন ভাইয়ের মধ্যে ফাহিম ছিলেন সবার বড়।
ফাহিম হত্যাকান্ড ও তার বাবা জাকির হোসেনকে জখমের ঘটনায় গত বুধবার রাতে ফাহিমের মা রেকসোনা বেগম তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে দশমিনা থানায় মামলা করেছেন। আসামিরা হলেন শাকিল মীর (২০), সোহাগ (২৪), সানু মীর (৪৫)। তাদের মধ্যে সানুকে ঘটনার সময় পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আসামিরা সবাই বাউফল উপজেলার ভাংরা গ্রামের বাসিন্দা।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, মামলায় তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। একজন আসামি গ্রেফতার আছে। অন্য দুই আসামি শাকিল ও সোহাগকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি আশা করেন খুব কম সময়ের মধ্যে ওই দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে পারবেন।
এএস/এসআর