For English Version
সোমবার, ০২ আগস্ট, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম জীবন যাপন

অন্দরসজ্জায় কার্পেটের জুড়ি নেই

Published : Saturday, 13 March, 2021 at 9:16 PM Count : 259

অন্দরসজ্জায় কার্পেটের জুড়ি নেই। বাহারি কার্পেটে রঙিন হয় ঘর। আয়তন, ঘরের রং বুঝে কোন ঘরে কেমন কার্পেট ব্যবহার করা হবে; কার্পেটের রং বা তন্তু কী হবে; রইল তারই খোঁজখবর।

দিন শেষে ঘরেই প্রশান্তি। ঘরেই মুক্তি। সেই ঘরকে, নিজের আবাসকে একটু সুন্দর করে সাজাতে কার না মন চায়! ঘর সাজাতে নানা রকম ইন্টেরিয়র করা হয়। পর্দা, বৈচিত্র্যময় আসবাবে সুন্দর করে সাজানো যায় অন্দর। তবে শীতের এই সময়টাতে কার্পেটে রঙিন করে তোলা যায় অন্দর। কার্পেটে যারা ঘরকে সুন্দর করে সাজাতে চান তারা মেনে চলতে পারেন কিছু পরামর্শ।

প্রথমেই আমরা জেনে নেই ঘর সাজানোর জন্য কেমন কার্পেট ব্যবহার করব। ব্যবহারবিধি ও উৎপাদনের কাঁচামালের ভিন্নতা অনুসারে কার্পেট বেশ কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহূত বেশিরভাগ কার্পেটই মূলত নাইলন, পলিয়েস্টার, উল, পলিপ্রপিলেন, ওলফিন এবং সিসালের তৈরি। এ ছাড়া রাবার এবং পাটের তৈরি কার্পেটও পাওয়া যায়।

পলিয়েস্টার কার্পেট : উজ্জ্বল রং এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের সুবিধার কারণে পৃথিবীজুড়েই পলিয়েস্টার কার্পেটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া পলিয়েস্টার কার্পেটগুলো নন অ্যালার্জিটিক এবং ইকো ফ্রেন্ডলি হওয়ায় যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তারাও নিশ্চিন্তে এই কার্পেটগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

বাড়তি সুবিধা হলো, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ছাড়া ব্লিচ দিয়ে পরিস্কার করলেও রং জ্বলে যায় না এবং পানির দাগও পড়ে না। ফলে পরিস্কার করার ঝামেলাও কম।

নাইলনের কার্পেট : নাইলনের কার্পেটগুলো খুবই নরম, কিন্তু পিচ্ছিল ম্যাটেরিয়ালের তৈরি। এর ফলে খুব সহজে দাগ পড়ে না। এক সময় নাইলনের কার্পেটগুলো একহারা রং ও গড়নের হলেও বর্তমানে এগুলো বিভিন্ন রং ও টেক্সচারের হয়ে থাকে। অন্য কার্পেটের তুলনায় নাইলনের কার্পেটগুলোর ইলাস্টিসিটি বেশি। তাই ভারী আসবাব নিশ্চিন্তে রাখা যায়।

পলিপ্রপিলেন : এটিও নাইলনের মতো নরম ম্যাটেরিয়ালে তৈরি। তাই অল্পতেই রং নষ্ট হয় না এবং দাগ-ছোপও কম ধরে। এর সবচেয়ে বড় যে গুণ তা হলো, বহুদিন একনাগাড়ে ব্যবহার করলেও এতে দুর্গন্ধ হয় না।

পাট এবং রাবার : বিভিন্ন ম্যাটেরিয়ালের কার্পেটের পাশাপাশি আমাদের দেশে পাট এবং রাবারের তৈরি কার্পেটও ব্যবহূত হয়। রাবারের তৈরি কার্পেটগুলো সাধারণত দাগ পরিস্কারের সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়। এমনিতে পাটের তৈরি কার্পেটের ব্যবহার বেশ কম, তবে যারা ঘরে দেশীয় আমেজ আনতে চান তারা ব্যবহার পাটের তৈরি কার্পেট ব্যবহার করে পাবেন।

সিসাল : সিসালের তৈরি কার্পেটগুলো সাধারণত ব্যবহূত হয় সিঁড়িতে পাতার জন্য। এ ধরনের কার্পেট নন টক্সিক হয়ে থাকে। ফলে এর ওপর দিয়ে ভারী জিনিসপত্র টানাটানি করলেও ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। তবে পানির সংস্পর্শে এলে এই কার্পেটগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

কোন ঘরে কোন কার্পেট
ঘরের ধরন বুঝে কার্পেট ব্যবহার করতে হবে। না হলে অন্দরসজ্জায় বেখাপ্পা ভাব চলে আসবে। এবার তবে জেনে নিই কোন ঘরে কেমন কার্পেট ব্যবহার করব।

বসার ঘর : বসার ঘর যদি ছোট হয় তাহলে অন্যান্য আসবাবপত্রের সঙ্গে কার্পেট ব্যবহারের সময় মাথায় রাখতে হবে কার্পেটটি যাতে ঘরজুড়ে বিছানো থাকে। এতে ঘরটি বড় দেখাবে। এরপর এর ফাঁকে ফাঁকে হালকা ধরনের আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়ে নিতে হবে। দেখবেন চমৎকার মানিয়ে গেছে। ছোট বসার ঘরের কার্পেট নির্বাচনের সময় একরঙা বা ছোট ছোট নকশার কার্পেট দিয়ে সাজাতে হবে।

বসার ঘর যদি বড় হয় তাতে যে কোনো রং কিংবা ডিজাইনের কার্পেটই মানিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে ছোট আকারের কার্পেট যেমন : ডিম্বাকৃতি, গোলাকার, চতুর্ভুজ- এমনকি গাড়ি ও মাছ আকৃতির নিত্যনতুন নকশার যে কার্পেট বাজারে পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

শোবার ঘর : শোবার ঘরের কার্পেট হিসেবে হালকা বা গাঢ় সবুজ যে কোনোটিই বেশ ভালোভাবে মানিয়ে যায়। এর পাশাপাশি হালকা নীল কিংবা যে কোনো হালকা রংও চাইলে ব্যবহার করতে পারেন। সবুজ ও নীল চোখের জন্য উপকারী তাই কার্পেট নির্বাচনের সময় এই রং দুটির দিকে গুরুত্ব বেশি দিতে পারেন। তবে শোবার ঘরে ঘরজুড়ে কার্পেটিং না করে শুধু খাটের পাশে ছোট বা ডিম্বাকৃতি অথবা গোল কার্পেটও ব্যবহার করতে পারেন।

পড়ার ঘর : পড়ার ঘরের কার্পেট যে কোনো রঙেই মানিয়ে যায়, তবে এ ক্ষেত্রে নকশাটির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কার্পেটের নকশাটি যদি দেখতে আকর্ষণীয় হয় তাহলে অনায়াসেই তা পড়ার ঘরে ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কার্পেটের রং হালকা হলেই ভালো হয়। এ ছাড়া ডিজাইনিং কার্পেটের পাশাপাশি মাছ আকৃতি, চারকোনা, পাঁচকোনা, ডিম্বাকৃতি, গোলাকৃতি, গাড়ির আকৃতি, ফুল আকৃতি ইত্যাদি বিভিন্ন নকশার ও আকারের কার্পেটও ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়া অনেকেই বাড়ির বাথরুম, বারান্দা ও সিঁড়িতেও কার্পেট ব্যবহার করে থাকেন। গোসলের জায়গা থেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে বাথরুমের বেসিনের সামনেও কায়দা করে কার্পেট ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন কার্পেটের ওপর পানি না পড়ে।

দরদাম : বিভিন্ন রকমের নকশা এবং এর বুননতন্তুর ওপর নির্ভর করে কার্পেটের দরদাম হয়। তাই কার্পেট কেনার আগে বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে কেনাই ভালো। আমাদের দেশে প্লাস্টিক জাতীয় কার্পেটগুলো গজ হিসেবে কিনতে হয়। ডিজাইনের ওপর বাহারি ধরনের এসব কার্পেটের গজ পড়বে ১০০ থেকে ৬৫০ টাকা। বিদেশি কার্পেটগুলোর ক্ষেত্রে দাম পড়বে তিন হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। শুধু বিদেশিই নয়, আমাদের দেশীয় পাটের কার্পেটগুলোর চাহিদাও প্রচুর। ঘরে দেশীয় আমেজ তৈরি করতে পাটের কার্পেটের জুড়ি মেলা ভার। পাটের কার্পেটগুলোর গজ পড়বে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকার মতো।

কোথায় পাবেন
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, পল্টন, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, উত্তরা ও গুলশান মার্কেটে নানান আকার ও ডিজাইনের কার্পেট পাওয়া যায়। এসব দোকানে কার্পেট পিস, ফুট এবং গজ হিসেবে বিক্রি করা হয়। ঢাকায় কার্পেটের সবচেয়ে বড় বাজার হলো এলিফ্যান্ট রোডে। এসব স্থানে দেশীয় কার্পেট ছাড়াও তুরস্ক, ইরান, চীন, বেলজিয়াম ও দুবাইয়ের কার্পেট পাওয়া যায়। গুলশানের বেশ কয়েকটি দোকানে পাওয়া যায় কাশ্মীর এবং মরক্কোর টুয়ারেগদের তৈরি কার্পেট।

যত্নআত্তি
কার্পেটে প্রচুর ধুলাবালি জমে। তাই নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে এক দিন কার্পেটগুলোকে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিস্কার করতে হবে এবং মাসে একবার হলেও ধুলা ঝেড়ে রোদে শুকাতে হবে।

কার্পেট যাতে কোনোভাবেই আগুন বা পানির সংস্পর্শে না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ভেজা বা আর্দ্র জায়গায় কার্পেট না রাখাই ভালো। এতে সহজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রচুর আলো-বাতাস চলাচল করে, এমন জায়গায় কার্পেট রাখতে হবে।

ইঁদুর বা পোকামাকড় থেকে কার্পেট বাঁচাতে মাঝেমধ্যে কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন।

বাসায় কার্পেট পরিস্কারের ভালো ব্যবস্থা না থাকলে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় কার্পেট ওয়াশ করা হয়। সেখান থেকে হট ওয়াটার ওয়াশিং, স্ট্রিম ক্লিনিং, ড্রাই ক্লিনিং করেও কার্পেট পরিস্কার করে নিতে পারবেন।

ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে সামনে-পেছনে টেনে টেনে পরিস্কার করলে কার্পেট খুব তাড়াতাড়ি পরিস্কার করা যায়।

ঘরে ধুলাবালি বেশি থাকলে কার্পেট বিছানোর আগে নিচে পাতলা পলিথিন শিট পেতে দিতে হবে। এতে কার্পেটের তলায় ধুলা কম জমবে।

কার্পেটে দাগ পড়ে গেলে সেগুলো তোলার জন্য সাবান-পানিতে নরম কাপড় ডুবিয়ে দাগের ওপর বুলিয়ে ব্রাশ ঘষে নিতে হবে, দাগ দ্রুত উঠে যাবে।

গরম পানিতে সামান্য পরিমাণ ভিনেগার মিশিয়ে আলতোভাবে স্প্রে করে নিলে কার্পেটে কোনো ধরনের বাজে গন্ধ থাকে না

এসআর


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft