For English Version
শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম সারাদেশ

নামছে না পানি : শঙ্কটে হাওরের কৃষি

Published : Friday, 27 November, 2020 at 9:48 PM Count : 182
অবজারভার সংবাদদাতা

নেত্রকোনা জেলার হাওর দ্বীপ খালিয়াজুরিতে সঠিক সময়ে কৃষি জমি না জাগায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক। মন্থর গতিতে পানি নামা ও ফসলি জমি না জাগায় তাদের মধ্যে এ শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফসল রক্ষা বেরিবাধ, সুইস গেইট গুলো বিকল হয়ে পড়া ও জলমহাল ইজারাদারকে এ সঙ্কটের কারণ বলেন মনে করছেন হাওরের কৃষক। 

জানা যায়, হাওর বেষ্টিত খালিয়াজুরিতে আবাদ যোগ্য জমির পরিমান প্রায় ২০ হাজার হেক্টর। তার মধ্যে শুধুমাত্র ছায়ার হাওরে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫’শ হেক্টর জমি। ছায়ার হাওরকে ঘিরে রেখেছে ফসলরক্ষা বাধ। নদীর সাথে কোথাও কোথাও রয়েছে সুইস গেইট। এসব ফসল রক্ষাবাধের জন্য পানি দ্রুত নামতে পারছে না। আবার সুইস গেইট গুলো সঠিক ভাবে তদারকি না করায় দু পাশে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়াতেও পানি নামতে পারছে না।
 
তাছাড়া কোথাও কোথাও হাওরের বিভিন্ন জলমহালগুলোর ইজারাদারেরা মাছ ধরার জন্য সুইস গেইট ব্যবহার না করে তাদের প্রয়োজনমতো বাধ কেটে মাছ ধরছে। এতে করে তাদের ইচ্ছেমতো পানি ছাড়ছে। তারা পরিকল্পিতভাবে সুইসগেইটগুলো বিকল করে রাখেন বলেও স্থানীয় কৃষকের অভিযোগ রয়েছে।
 
ছায়ার হাওরের একমাত্র পানি নিষ্কাশন পয়েন্ট কুখড়ার খাল। এখানে বিদ্যমান সুইস গেইটটি অচল হয়ে পড়ে আছে। গেট বন্ধ থাকায় ইচ্ছেমতো বাধ কেটে জাল ধরে মাছ ধরছেন ইজারাদাররা। সুইস গেইটটি সংস্কার করে এর মুখে জাল ধরে মাছ ধরলে গেইটটি যেমন সচল থাকতো, অক্ষত থাকতো ফসল রক্ষা বাধ। হাওরের পানিও নেমে যেতো সহজেই।

খালিয়াজুরি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম এলিন বলেন, কুখড়ার খালের সুইস গেটটি শাল্লা উপজেলার নিয়ন্ত্রণে। এটি সংস্কার ও সচল করার জন্য তিনি শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলেছেন।

শাল্লা উপাজেলা নির্বাহী অফিসার মুক্তাদির হোসেন বলেন, সুইস গেইটটি খুলে দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দ্রুতই খুলে দেয়া হবে।

অপরদিকে অকাল বন্যা হতে হাওরের ফসল রক্ষার জন্য গড়ে তোলা বাধগুলো এখন পানি নিষ্কাশনের অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে। এগুলো যেমন বর্ষায় পানি ঢুকতে বাধা দেয় তেমনি বর্ষা শেষে পানি নামতেও সৃষ্টি করছে প্রতিবন্ধকতা। এছাড়ও কিছু অপ্রয়োজনীয় বাধও রয়েছে যা পানির প্রবাহকে বাধাগ্রস্থ করে।

খালিয়াজুরি উপজেলা কৃষি কর্তকর্তা আহসান হাবিব বলেন, পানি নিষ্কাশন না হওয়া খুবই আশঙ্কার বিষয়। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে তিনি কথা বলেছেন বলেও জানান। 
 
হাওর বিশ্লেষক মুজিবুর রহমান তালুকদার মনে করেন, ফসলরক্ষা বাধগুলো অবশ্যই দরকার। তবে বর্ষা শেষে পানি নামার জন্য দরকার পরিকল্পিত বাধ। সঠিক জায়গায় সুইস গেট নির্মাণ ও সচল রাখার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ছায়ার হাওরসহ উপজেলার অনেক কৃষক মনে করেন, দু’একটা আন্তজেলা ফিসারি উন্মোক্ত রাখতে হবে। সরকারের যতসামান্য রেভেনিউ থেকে কৃষকের স্বার্থটাকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। জলমহাল গুলো ইজারা দেয়ার ফলে কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে ইজারাদারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। এসব ইজরাদারারা ইচ্ছামতো হাওরের পানি নামার গতিকে শাসন করে। 
 
জানা যায়, জৈষ্ঠ মাস হতে কার্তিক মাস পর্যন্ত ছয় মাস হাওরের জমি বর্ষার পানি নিচে থাকে। কার্তিক হতে এ পানি সরতে থাকে। কার্তিকের শেষ সপ্তাহ হতে কৃষক তাদের বীজ তলা প্রস্তুত করে অগ্রহায়নে তারা বীজ ধান রোপন করে। এবং পৌষ হতে তারা চারা রোপন শুরু করে। কিন্তু এ বছর অগ্রহায়নের অর্ধেক হয়ে গেলেও বীজ তলা পুরোপুরি না জাগায় অনিশ^চয়তার পড়েছে হাওরের বোরো ফসল। এখন বীজ ধান রোপন সম্ভব না হলে পৌষের মধ্যে চারা রোপন সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে ধান ঘরে তোলা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। 

তারপরও হাওড়ের জীবিকার একমাত্র ভরসা কৃষিকে বাচাতে বোরো ফসল রোপনের জন্য পানি দ্রুত সড়ানোর ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে কৃষকেরা আশা প্রকাশ করেন।

আইএইচ/এসআর 


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft