For English Version
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১, রেজি: নং- ০৬
Advance Search
হোম আইন-আদালত

যেসব শর্তে একদিনে ৪৭ মামলা আপোষে নিষ্পত্তি

Published : Wednesday, 25 November, 2020 at 5:34 PM Count : 86


পারিবারিক নানা বিরোধে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন সময়ে করা ৪৭টি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। মামলাগুলো আপসে নিষ্পত্তি হওয়ায় আদালত সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন বুধবার এ রায় প্রদান করেন।

সুনামগঞ্জের ৪৬ দম্পতির সঙ্গে আজ এমনটা ঘটেছে। এর মধ্যে এক ব্যক্তির দুই স্ত্রী, তারা দুজনই স্বামীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগে মামলা করেছিলেন। রায় ঘোষণার পর আদালতের কর্মীরা তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

রায় ঘোষণার পর বিচারক মো. জাকির হোসেন বলেন, আইন-আদালত সৃষ্টি হয়েছে শুধু মানুষকে শাস্তি দেয়া জন্য, মানুষের মধ্যে এমন একটা ভুল ধারণা আছে। মানুষের এই ধারণাকে পাল্টে দেয়ার জন্যই আজকের এই রায়।

মামলা নিষ্পত্তি হওয়াতে স্বামীর ঘরে ফিরেছেন স্ত্রী। সন্তানদের কেউ কেউ ছিল মায়ের সঙ্গে, আবার কেউ বাবার সঙ্গে। এখন তারা মা–বাবা দুজনের সঙ্গে থাকবেন। তবে এসব দম্পতিকে মানতে হবে কয়েকটি শর্ত। এ ব্যাপারে আদালতে লিখিত অঙ্গীকার করেছেন তারা।

শর্তগুলোর মধ্যে আছে তারা সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে মিলেমিশে চলবেন, সংসারধর্ম পালন করবেন, স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যথাযথ সম্মান দেবেন, শান্তি নষ্ট হয়, এমন কোনো কাজ আর করবেন না, স্ত্রী বা তার পরিবারের কাছে কোনো যৌতুক চাওয়া যাবে না, ছোটখাটো কোনো বিরোধ দেখা দিলে পারিবারিকভাবে বসে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তা সমাধান করতে হবে, স্ত্রীকে কখনো নির্যাতন করা যাবে না আর যদি স্বামী নির্যাতন করেন তবে স্ত্রী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নান্টু রায় বলেন, এই রায় একটা নজির। আদালত নিজে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সহায়তায় এই মামলাগুলো আপসে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সংসারে বিভিন্নভাবে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে নারীরা এসব মামলা করেছিলেন। মামলার কারণে পারিবারিক দ্বন্দ্ব-বিভেদ আরও বাড়ে। আদালতের ব্যতিক্রমী এ রায় সমাজে একটা ইতিবাচক বার্তা দেবে।

রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে কথা হয় জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসমিন আক্তারের সঙ্গে। কোলে দেড় বছরের এক ছেলে, পাশেই ছিলেন স্বামী সেবুল মিয়া। ইয়াসমিন আক্তার বলেন, একদিন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে স্বামী তাকে মারধর করেন। বিষয়টি তার বাবা জেনে খুবই ক্ষুব্ধ হন। তিনি বাবার বাড়ি চলে যান এবং স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। আসলেই স্বামী যৌতুক চেয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে ইয়াসমিন বলেন, ‘রাগ করি মামলা করছিলাম। মামলাত হাছামিছা কওয়া লাগেই। এখন শেষ অইছে, ইটাই খুশি।’

এসআর


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft