For English Version
বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

পূজোর আমেজ নেই শ্রীমঙ্গলে

Published : Friday, 16 October, 2020 at 12:23 PM Count : 448
রুপম আচার্য্য

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তবুও পূজোর আমেজ নেই চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে।

চলতি বছর করোনা ভাইরাসের কারণে পূজোর কোন আমেজ নেই শহরে। নেই কোন সাজসজ্জা, নেই আলোকসজ্জা, মাঠে নেই মন্ডপ সাজানোর আর্ট শিল্পী, প্রত্যেক মন্ডপ যেন নিরবতা পালন করছে। আয়োজকদেরও খুব কম দেখা যাচ্ছে।

তবে ২৬টি নির্দেশনা মেনে স্বল্প পরিসরে বিভিন্ন মন্ডপে পূজোর আয়োজন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এদিকে, এই উপজেলায় করোনা মহামারীকে পেছনে ফেলতে দেবীর আগমনের অপেক্ষার প্রহর গুণছেন মায়ের ভক্তরা।

আয়োজকরা বলছেন, স্মরণকালের ইতিহাসে এ বছরের দূর্গাপূজোর প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার মহামারী করোনার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উৎসবের আমেজ খুঁজে পাচ্ছেন না সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রতিমা তৈরির মজুরি কমায় হতাশা রয়েছে এই উপজেলার প্রতিমা শিল্পীদের মধ্যে।

পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ব্যক্তিগত ১২টি এবং সার্বজনীন ১৫৫টি মিলিয়ে ১৬৭টি মন্ডপে দূর্গাপূজো হচ্ছে। এর মধ্যে এ বছর উপজেলার রামণগর মণিপুরী পাড়ার দুটি মন্ডপ কমেছে। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে একটি ও সদর ইউনিয়নের নোয়গাও গ্রামে একটি মিলিয়ে দুটি মন্ডপ বাড়ছে। আগামী ২২ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ মহোৎসব। চলবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত।

স্থানীয় সঙ্গীত শিল্পী নিপা আচার্য্য বলেন, 'প্রতি বছর দূর্গাপূজোর সময় অনেক ব্যস্ত থাকি। এ বছর করোনার জন্য আসলে মনের মধ্যে সেই আমেজটি নেই। মন খারাপ লাগবে। কারণ করোনার জন্য আরম্বর করে কোনও পূজোর আয়োজন হবে না। যা হবে সীমিত পরিসরে হবে। যা শ্রীমঙ্গলবাসীর জন্য একদমই নতুন অভিজ্ঞতা। তাছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না। সবাই মিলে হৈ হুল্লোড় করে অঞ্জলি দেয়া হবে না। এসব বিষয়ে মন খারাপ থাকবে। তবুও মায়ের কাছে বিশ্ব শান্তি কামনায় প্রার্থনা করবো, মা যেন সব সংকট থেকে আমাদেরকে মুক্তি দেন। সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা।'

শ্রীমঙ্গল শহরের প্রতিমা শিল্পী ও পুরোহিত গৌরাঙ্গ আচার্য্য বলেন, 'গত কয়েক বছর ধরে আমরা প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছি। প্রতি বছর দূর্গাপূজোয় আমরা ১৫-২০টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরি করেছি। কিন্তু এ বছর মহামারী করোনার কারণে ৭টি পূজোর মন্ডপে প্রতিমা তৈরি করছি।'

শহরের মাষ্টার পাড়া পূজো সংসদ সভাপতি দুলাল বণিক বলেন, 'আমরা প্রতি বছরই কিছু না কিছু আকর্ষণীয় আয়োজন করে থাকি। কিন্তু এ বছর করোনা মহামারীর কারণে ছোট পরিসরে পূজোর আয়োজন করছি। আমাদের মাস্টার পাড়ার পূজো ৩৬ বছর পেরিয়ে ৩৭ বছরে পা রাখলো মায়ের আগমনী তে। এই মহামারীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পৃথিবীর সকল মানুষের মঙ্গল কামনায় মায়ের পায়ে পুস্প দিয়ে প্রার্থনা করবো, যাতে পৃথিবীর সকল ধর্মের মানুষ এই মহামারী থেকে রক্ষা পায়। তবে প্রত্যেক বারের মত না হলেও দেশ ও পৃথিবীর অবস্থা বিবেচনা করে সীমিত পরিসরে সরকারী নির্দেশনা মেনে পূজো সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা ও সাহায্য চাই।'

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুশীল শীল বলেন, 'শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৬৭টি মন্ডপে চলছে দেবী দূর্গার প্রতিমা তৈরির পর রং তুলির কাজ। সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলছে এ উপজেলার শারদীয় দুর্গাৎসবের প্রস্তুতি।'





তিনি আরও বলেন, 'এ বছর করোনায় উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দূর্গাৎসব পালন করতে না পারায় কিছুটা হতাশ হবে আগত দর্শণার্থীরা। পূজো মন্ডপগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে মানুষ উৎসব পালন করে, সে ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।'

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুস সালেক বলেন, 'এ বছর স্থায়ী ভাবে মন্ডপে কোনও পুলিশ বা আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে না, স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। সাদা পোশাকধারীরা টহলে থাকবেন। এছাড়া কয়েকটি পূজা মন্ডপ মিলে একজন অফিসারকে ট্যাগ করে দেওয়া হবে যেকোন প্রয়োজনে সংশিষ্ট পূজা কমিটি ওই পুলিশ অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক এবং ২৬টি নির্দেশনার আলোকে পূজোর কার্যক্রম চলবে। রাত ৯টার পর কোনক্রমেই দর্শণার্থীদের মন্ডপে জড়ো না হওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ব্যত্যয় হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।'

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, 'পূজো নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা নির্দেশনা পেয়েছি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার আলোকে এবারের দূর্গাপূজো উদযাপন করা হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও সকল পূজা কমিটিকে ২৬ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, শোভাযাত্রা না করা, জনসমাগম নিরুৎসাহিত করা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা।'

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft