For English Version
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০
Advance Search
হোম অনলাইন স্পেশাল

যেখানে দিনে ৫ বার মিলিত হচ্ছেন দু’দেশের নাগরিক

Published : Monday, 5 October, 2020 at 3:13 PM Count : 334
আনোয়ারুল হক

" style=


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারত এই দু’দেশের মানুষ একটি মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

এই মসজিদে দিনে ৫ বার মিলিত হচ্ছেন দু’দেশের মুসলমান নাগরিকরা। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলেও ভাগ হয়নি তাদের সীমান্তের এই জামে মসজিদটি। দুই দেশের মানুষকে এখনো একই সমাজে আবদ্ধ রেখেছে মসজিদটি।  বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নং ৯৭৮ এর সাব পিলার ৯ এর পাশে এই দু’দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির এক উজ্জল নিদর্শন হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে মসজিদটি।

উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার ঝাকুয়াটারী গ্রাম এবং দক্ষিণে বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বাঁশজানি গ্রাম। মসজিদটি সীমান্তের শূণ্য রেখার কাছে বাংলাদেশের ভূ-খন্ডে নির্মিত। মসজিদটির নাম ঝাকুয়াটারী সীমান্ত জামে মসজিদ। মসজিদটির বয়স প্রায় দুই শত বছর হবে বলে দুই দেশের স্থানীয়রা জানান।
ভূরুঙ্গামারীর (বাংলাদেশ) ঝাকুটিয়া মসজিদের প্রান্ত (ডানে), বামে ভারতীয় অংশের বাড়িঘর।

ভূরুঙ্গামারীর (বাংলাদেশ) ঝাকুটিয়া মসজিদের প্রান্ত (ডানে), বামে ভারতীয় অংশের বাড়িঘর।

দেশ (ভারত-পাকিস্তান) ভাগের আগে এই সমাজটি গড়ে উঠে। পরবর্তিতে ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলে গ্রামটির উত্তর অংশ চলে যায় ভারতের অংশে এবং দক্ষিণ অংশ থাকে বাংলাদেশের। ভারতীয় অংশের নাম হয় ঝাকুয়াটারী এবং বাংলাদেশের অংশ নাম হয় বাঁশজানি গ্রাম। ভারতের অংশটি কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে পড়ে যায়। গ্রামটি আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার দিয়ে ভাগ হলেও ভাগ হয়নি তাদের সমাজ। প্রতিবেশির মতই তাদের বসবাস।
ভূরুঙ্গামারীর (বাংলাদেশ) ঝাকুটিয়া মসজিদটি গাছের ফাঁকে (ডানে), বামে ভারতীয়দের বাড়িঘর। খোলা জায়গায় খেলাধুলা করছে দুই দেশের ছেলেরা।

ভূরুঙ্গামারীর (বাংলাদেশ) ঝাকুটিয়া মসজিদটি গাছের ফাঁকে (ডানে), বামে ভারতীয়দের বাড়িঘর। খোলা জায়গায় খেলাধুলা করছে দুই দেশের ছেলেরা।


মসজিদের ইমাম বাঁশজানি গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৩) বলেন, 'মুয়াজ্জিনের আযানের ধ্বনিতে দুই বাংলার মুসল্লিরা ছুটে আসেন মসজিদে। একসঙ্গে আদায় করেন নামায। এ সময় ভুলে যান তারা দু’দেশের নাগরিক। মসজিদ থেকে বেরিয়ে কোলাকুলি করেন। নিজেদের মধ্যে বিনিময় করেন কুশলাদি। বিতরণ করেন সিন্নি। তারা সীমান্তে একে অপরের মাঝে দুঃখ, বেদনা ও সুখের কথা আদান প্রদান করে থাকেন। একই সমাজভূক্ত হওয়ায় একে অপরের বিপদে-আপদে ছুটে আসেন। শুক্রবার জুম্মার নামাযের দিন সীমান্তের এই মসজিদটি আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।'

একই গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম (৩২) বলেন, 'ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত এই মসজিদটি দেখতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শণার্থীরাও আসেন। তারা এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন।'

ভারতের ঝাকুয়াটারী গ্রাম থেকে আসা খয়বর আলী (৭৮) বলেন, 'সীমান্ত মসজিদটি দু’শ বছরের পুরানো হলেও অবকাঠামোগত কোন উন্নতি হয়নি। সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণে আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা থাকায় এটি সম্ভবও হচ্ছে না। দুই বাংলার মানুষ যৌথ ভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত করে থাকেন।

একই গ্রামের আহমেদ আলী (৬৫) বলেন, 'গ্রামের মাঝ বরাবর একটি কাঁচা সড়ক আছে আর এই সড়কটির অর্ধেক হলো বাংলাদেশের আর অর্ধেকটা ভারতের। উভয় দেশে নাগরিক যৌথ ভাবে এই সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন। মেরামতের সময় তারা যৌথ ভাবে নিজেরাই কাজ করেন।'
কুড়িগ্রাম জেলায় ভূরুঙ্গামারীর(বাংলাদেশ)এই সীমান্ত পিলারটি দু'দেশের স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তার মাঝে। এর ডান পাশে বাংলাদেশ, বায়ে ভারতের ভূখন্ড।

কুড়িগ্রাম জেলায় ভূরুঙ্গামারীর(বাংলাদেশ)এই সীমান্ত পিলারটি দু'দেশের স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তার মাঝে। এর ডান পাশে বাংলাদেশ, বায়ে ভারতের ভূখন্ড।

তিনি আরও বলেন, 'ভারতের ঝাকুয়াটারী গ্রামে ৪৫টি পরিবারের আড়াইশ মানুষের বাস। এই গ্রামে তাদের জমি জমা ও বসতভিটা থাকায় তারা কাঁটাতারের বেড়ার ভেতর চলে যাননি। এই গ্রামে থেকে গেছেন। তাছাড়া সীমান্তের এপারের মানুষের সঙ্গে তাদের রয়েছে আত্মীয়তার বন্ধন। তাদের মধ্যে কোন দিনও ঘটেনি কোন ঝগড়া বিবাদ ও জটিলতা।

মসজিদটির সম্পাদক বাংলাদেশের বাসিন্দা কফিলুর রহমান বলেন, 'আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী জিরো লাইন থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোন দেশ স্থাপনা তৈরি করতে পারবেনা। এই আইনের মাধ্যমে মসজিদটির উন্নয়ন বন্ধ হয়ে রয়েছে। মসজিদটির উন্নয়নের ব্যাপারে তিনি উভয় দেশের সহযোগিতা কামনা করেন।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর মিঠু বলেন, 'এই সীমান্তের উভয় বাংলায় বসবাসকারীরা একে অপরের আত্মীয়। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীও তাদের শান্তিপূর্ণ বসবাসে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি।'





পাথরডুবি ইউনিয়নের ঝাকুয়াটারী ওয়ার্ড মেম্বার এরফান আলী বলেন, 'ভারত নির্মাণ কাজে বাঁধা দেবার কারণে মসজিদটির উন্নয়নে তারা কোন প্রকল্প গ্রহণ করেননি।'

দিয়াডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ সুবেদার আনিছুর রহমান বলেন, 'ডিসি বা ইউএনও পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে নির্মাণের ব্যাপারে আলোচনা করলে তারা মসজিদ সংস্কারের ব্যাপারে অনুমতি দিতে পারে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, 'আমি নিজেও মসজিদটি দেখে এসেছি। মসজিদটির উন্নয়নের ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।'

-এমএ


« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft