For English Version
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০
Advance Search
হোম সারাদেশ

তিন দিনেও গ্রেফতার হয়নি হত্যাকারী, তদন্ত করছে সিআইডি

Published : Tuesday, 22 September, 2020 at 8:14 PM Count : 171
অবজারভার সংবাদদাতা

সাভারে রিক্সা দিয়ে যাওয়ার পথে জুরপূর্বক নামিয়ে রেখে নিলা রায় (১৪) নামে এক স্কুল ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যার তিন দিন পার হলেও অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওই যুবকসহ তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। এঘটনায় নিহত স্কুল ছাত্রীর বাবা নারায়ন রায় বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা (নং-৩৮) দায়ের করেছেন। 

এদিকে ঘটনার তিন দিন পরেও পুলিশ অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্য মিজানুরকে গ্রেফতার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া হত্যাকান্ডের পর ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভিড় করায় আলামত নষ্টেরও আশঙ্কা করেন তারা। তবে বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে পুলিশের পাশাপাশি হত্যাকান্ডের ঘটনায় ছায়া তদন্তে নেমেছে সিআইডি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সিআইডি পুলিশ ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে হত্যার স্থান ও এর পাশ থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

সরেজমিনে হত্যার স্থান ও আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাভার পৌর এলাকার কাজী মোকমাপাড়া এলাকাটিতে মাদকের জমজমাট বেচাঁকেনার পাশাপাশি বিভিন্ন খালি বাউন্ডারিতে নিয়মিক মাদক সেবন করে থাকে এলাকার উঠতি বয়সী কিশোর, যুবকসহ অনেকেই। আর এসব মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাং সদস্যদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ওই এলাকার কথিত আওয়ামী লীগ নেতা শিরুর ছেলে শাকিল ও সাকিব। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া কথিত নেতা শিরুর ছেলে সাকিব এই এলাকার কিশোর গ্যাং সদস্যদের নিয়ন্ত্রন করে থাকে। তার সাথেই হত্যকারী মিজানুরের সখ্যতা রয়েছে এবং তারা উভয়ে মিলে ওই এলাকার কিশোর গ্যাং এবং বিভিন্ন মাদক স্পট পরিচালনা করে। এখানে প্রতিদিনই জমজমাট মাদকের আসর বসে। পরিত্যাক্ত বাউন্ডারি ও খোলা মাঠগুলো সন্ধ্যার পরই কিশোর গ্যাং সদস্যদের পদচারনায় সরগরম হয়ে উঠে। এসব বিষয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ পুলিশকে একাধিকবার জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি তারা।

ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ির অপর বাসিন্দা বলেন, গত তিন দিন আগেও কতগুলো ছেলে লাঠিসোঠা নিয়ে একই গলিতে গালিগালাজ করতে করতে দৌরাচ্ছিলো। এরপর গত শনিবার দিনের বেলায় কিশোর গ্যাং লিডার সাবিক একটি মেয়েকে রিক্সা থেকে নামিয়ে ইচ্ছামতো গালিগালাজ ও মারধর করে। এসব বিষয়ে কেউ ওদের বাসায় বিচার দিতে গেলে উল্টো তাদেরকে মারধর করে তারিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া ওই গলিতে কেউ ঢুকলে তাদেরকে বকঝকা করে তারিয়ে দেয়া হয়। ওদের যে বকা এবং কথা বলার ধরন তাদের উৎপাতে এলাকার মা-বোন কিংবা বয়স্ক কেউই রাস্তা দিয়ে হাটতে পারেনা। এলাকায় কোন ঝালমুড়িওয়ালা, মাছ ওয়ালা ও সব্জী ওয়ালা আসলে তাদেরকে মারধর করে চাঁদা আদায় করে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। সাইফুল নামে একজন দোকানদার সাকিব ও মিজানুরের অত্যাচারে ব্যবসা ছেড়ে এলাকা থেকে চলে গেছে। প্রতিদিনই তার কাছ থেকে চাঁদা নিতো এবং টাকা না দিলেই মারধর করতো। সাকিবের ভাই শাকিলও গত তিন বছর আগে একটি হত্যার ঘটনা ঘটনায় একই গলিতে।

নিহতের স্বজনদের দাবি বখাটে মিজানুর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে নিলাকে রাস্তাঘাটে বিরক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিশোরী নীলা তাঁর ভাই অলকের সঙ্গে রিকসয় করে হাসপাতালে যাচ্ছিল। পথে মিজান রিকশার গতিরোধ করেন। পরে নীলাকে টেনে হিঁচড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে একটি টিনসেট ঘরে ভেতরে  নিয়ে তাকে  হত্যার করে । নীলার মা মুক্তি রায় বলেন আমার মেয়ে বড় হয়ে ডাক্তার হতে চেয়েছেন সেই স্বপ্ন আর হতে দিলেন না মিজান । মিজানের মা-বাবাকে বলার পরও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো মিজানের মা তাঁর মেয়েকে মিজানের সঙ্গে কথা বলতে ও ফেসবুকে চ্যাট করার পরামর্শ দিতেন। 

এ অবস্থায় মিজানের অত্যাচারে বছরখানেক আগে তাঁরা সাভারের বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের বালিরটেকে চলে গিয়েছিলেন। ছেলে ও মেয়ের পড়ালেখার জন্য কয়েক মাস পরে আবার তাঁরা সাভার চলে আসেন। এর কিছুদিন পর থেকে মিজান আবার তাঁর মেয়ের পিছু নেন। এরপরও ভয়ে তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানানো থেকে বিরত থাকেন।  তার  মেয়েকে তুলে মাদক ষ্টপটে নিয়ে ছুরিকাঘাত করেন।

মাদকের এসব স্পট নিয়ন্ত্রণ করছে সাগর, সুজব, পারভেজ, হানিফ, জয়, রাব্বি, সাকিব, শাকিল, যাবেরসহ আরও অনেকে। এসব স্পটে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে মাদকদ্রব্য বিক্রি হয়। এমনকি যৌন উত্তেজক 'ইয়াবা' ট্যাবলেটও সাভারে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। 
জাগ্রত বিবেক ফাউন্ডেশন (জাবিফ) সভাপতি মনি মক্তা ইসলাম বলেন এখানে আগে একটি খুন হয়েছে , শুধু মাদকেই শেষ নয়, এখন মাদকের ছত্রছায়ায় সাভার হয়ে উঠেছে অপরাধীদের অভয়ারণ্য। 

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) নির্মল কুমার দাস বলেন, নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত দেখে ওই ছাত্রীকে ধর্ষন করা হতে পারে মনে হওয়ায় ডিএনএ টেস্ট করতে বলা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পেলেই জানা যাবে তাকে ধর্ষন করা হয়েছিলো কিনা। হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। 

এইচএস





« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60; Online: 9513959 & 01552319639; Advertisemnet: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft